Tuesday, February 12, 2019

হিজড়াদেরকে টাকা দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন!


বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হিজড়াদের উপদ্রব বেড়ে গেছে। আবার একটি মহল তাদেরকে নিয়ে ব্যবসায় নেমেছে।
যাহোক, যেটা কথা সেটা হলো— আপনি যখন তাদেরকে ১০ টাকা দেওয়ার জন্য পকেটে হাত দিয়ে টাকা বের করবেন এবং টাকা বের করার পর যদি দেখা যায় আপনার কাছে ১০ টাকার নোটও আছে সেইসঙ্গে ১০০ টাকার নোটও আছে। সেই সুযোগেই তারা আপনাকে বলে বসবে, 'ভাই আমাকে ১০০ টাকার নোটটা দেন আমি ৯০ টাকা ফেরৎ দিচ্ছি, আমার কাছে খুচরা টাকা বেশি হয়েছে গেছে, নোট করে নিবো'।
ভুলেও তাদের এই কথায় ভুলে তাকে ১০০ টাকার নোট দিবেন না; দিলে আর তা ফেরৎ পাবেন না।
আপনি ওদেরকে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন; বলবেন যে, 'আচ্ছা ঠিক আছে, ৯০ টাকা আগে দেন আমি ১০০ টাকার নোট দিচ্ছি'।
দেখবেন ওরা দিবে না, বরং ওরা আপনার কাছে আগে ১০০ টাকার নোট চাইবে। তাই এই ভুল কাজ করবেন না।

-মেহেদী হাসান
প্রতিষ্ঠাতা, স্কুল অব এ্যাওয়ারনেস।

ভালো থাকুন | School of Awareness

ব্যাংক চেক লেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা→


ব্যাংক চেক লেখার সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। যেমন-

১. যেখানে Taka লেখা থাকবে এরপর "............." কিংবা "________" যেখান থেকে শুরু সেখান থেকেই লেখা শুরু করবেন, অর্থাৎ আপনার লেখার সামনে আর কিছু লেখার সুযোগ রাখবেন না। এমনকি আপনার লেখার মাঝেও অন্য কারো কিছু লেখার সুযোগ রাখবেন না।

২. বক্সের ভিতরে টাকার পরিমাণ অংকে লেখার সময় TK. যেখানে লেখা আছে এরপর সংখ্যা এমনভাবে লিখুন যাতে এর আগেও কিছু লেখা না যায়।

৩. টাকার পরিমাণ কথায় লেখার পর 'মাত্র' লিখুন এবং দাঁড়ি দিন, আর অংকে লেখার পর /- এই চিহ্নটি দিন, যেমন- ১০০০/-

উক্ত পোস্টের ফটোটি দেখলে বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। আর কমেন্টে চেক লেখার একটি আদর্শ নমুনার ফটো দেওয়া আছে।

ভালো থাকুন | School of Awareness

Monday, February 11, 2019

কার ভ্রমণে সতর্ক থাকুন, দেখুন ও নিরাপদ থাকুন এই অভিনব ফাঁদ থেকে!


চিত্রে দেখুন→
এটি একটি সচেতনতামূলক পোস্ট, বিশেষকরে যারা রাতে গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করেন তারা একটু সাবধানে গাড়ি চালাবেন কারণ অভিনব পদ্ধতিতে এভাবে রাস্তায় লোহার পেরেক দিয়ে গাড়ি আটকে সবকিছু লুট করা হচ্ছে। মানুষের জীবন এবং মূল্যবান সম্পদ রক্ষায় এই পোস্টটি বেশি বেশি শেয়ার করুন যাতে মানুষ সচেতন হয়।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

রাতের বেলা বাইক চালাতে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকুন!


১. রাতের বেলা অপরিচিত কাউকে বাইকে লিফট দিবেন না বিশেষ করে কোনো মহিলাকে ভুলেও লিফট দিতে যাবেন না। তাহলে বাইক এবং প্রাণ দুইটাই খোয়াতে পারেন।
২. রাতের বেলা বাইক চুরির একটা মহাকৌশল হলো লুকিয়ে থেকে বাইকের গায়ে কিছু ছুড়ে মারা। এক্ষেত্রে বাইকের কি হয়েছে তা দেখার জন্য রাইডার বাইক থামায় এবং তখনই ছিনতাইকারীরা বাইক ছিনতাই করে।
৩. নির্জন জায়গায় বাইক চলন্ত অবস্থায় জোরে কোন শব্দ হলে ভুলেও কি হয়েছে তা দেখার জন্য থামবেন না এবং চেষ্টা করবেন মানুষজন আছে এমন কোনো জায়গায় থেমে বাইকের কি হয়েছে তা চেক করতে।
৪. রাতের বেলা ভ্রমণ করার সময় পথিমধ্যে ছোট বাজারগুলোতে না থামার চেষ্টা করবেন। কারণ এতে আপনি বাইক ছিনতাইয়ের সহজ টার্গেটে পরিনত হতে পারেন।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

অপরিচিত কাউকে বাইকে লিফট দিতে সতর্ক থাকুন!


পারসোনাল কাজে পল্টনের দিকে যাচ্ছিলাম, প্রচণ্ড জ্যামের কারণে ফার্মগেটে বসে ছিলাম প্রায় আধাঘণ্টা। এমন সময় এক লোক এসে বলল, "ভাই কোন দিকে যাবেন?" বললাম, "পল্টন যাচ্ছি"। 
"আমি পুলিশের লোক, আমাকে একটু সামনে নামায়া দেন, আমিও ওইদিকে যাবো।" পুলিশের পোশাক না থাকলেও চুলের কাটিং দেখে কিছুটা পুলিশ পুলিশ মনে হলো। স্বাভাবিকভাবেই বললাম, 'উঠেন'। জ্যাম ছাড়ার পর বাইক টান দিলাম। মোটামুটি জ্যামের মধ্যে টুকটুক করতে করতে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত আসলাম। এই সময়ের মধ্যে আমি কি করি, কই থাকি, আয় রোজগার কেমন, দেশের পরিস্থিতি এই সব বিষয়ে নানান কথা সে জিজ্ঞেস করে ফেলে। সার্ক ফোয়ারা পার করার পর আমার হঠাৎ কিছুটা আনইজি লাগে। কারণ লোকটা দুইবার আমার কোমরে বেল্টের ওই জায়গায় দুইবার হাত দিয়েছে। বাংলামোটর আবার জ্যামে বসে সে আমাকে কয়েকবার বলল "ভাই অনেক জ্যাম, শাহবাগ দিয়া না যাইয়া শেরাটনের ভিআইপি দিয়া যান। বারবার বলাতে আমার আরও সন্দেহ বাড়ল। আমি একটা কারণ দেখাইয়া বললাম "ভাই আমি যাইতে পারবো না, আমার একটা জরুরি কাজ পইড়া গেছে। আপনি এখানেই নেমে যান।" একটু গাইগুঁই করার পর আমি প্রায় জোর করে তাকে আমার বাইক থেকে নামায় দেই। নামায়ে দিয়ে কিছুদূর গিয়ে ভিআইপি রোডের মাথায় গিয়ে বাইক থামিয়ে সর্বপ্রথম কোমরে হাত দেই। হাত দিয়ে আমি তো অবাক! দেখি বেল্ট এর চিপায় একটা ছোট কাগজের পোটলা। খুলে দেখি ভিতরে দুই দুইটা ইয়াবা। সাথে সাথেই সব পানির মত পরিষ্কার হয়ে গেল। দ্রুত নিজের সারা বডি চেক করলাম, বাইকের যত চিপাচাপা আছে সব চেক করলাম। নাহ, আর কিছু নাই। ইয়াবা দুইটা ফেলে আবার বাইক টান দিলাম। এবং যথারীতি সামনে একটা চেকপোস্ট। বাইক থামালো। কাগজপত্র না দেখতে চেয়ে বলল, "গাড়ি থেকে নামেন, চেক হবে"। মানসিকভাবে এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। শীতের কাপড় খুলে, জায়গা-বেজায়গা হাতাইয়া চেক করল, বাইক চেক করল। কিছুই না পেয়ে কিছু উল্টাপাল্টা প্রশ্ন শুরু করছিল, সুযোগ দেই নাই। পরিচিত কিছু পুলিশ ভাই ব্রাদার এর পরিচয় দিতেই বলল, "আপনি যান"।
তাদের নাম দেখার চেষ্টা করলাম, পারলাম না। কারোই নেমপ্লেট নাই। আল্লাহর অশেষ রহমতে বিশাল একটা ফাঁড়া থেকে বাঁচলাম। বাইকার ভাইরা সাবধানে থাকবেন, অপরিচিত কাউকে বাইকে লিফট দেয়ার আগে সাবধান। আমি আজকে বেঁচে গেছি, আপনি হয়তো ফাঁদে পা দিয়েও দিতে পারেন। দিলেই মান সম্মান, টাকা পয়সা সব যাবে।

বিঃ দ্রঃ আমি পাঠাও এর কোন গ্রুপ এ নাই, কোন পাঠাও ভাই পারলে পাঠাও এর গ্রুপগুলোতে শেয়ার করে দিন।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

ঢাকা শহরে চলাফেরায় সতর্ক থাকুন!


ঢাকায় থাকেন বা নতুন এসেছেন বা চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকায় যাবেন? তাদের একবার পড়ে নেওয়া খুব জরুরী; 'হাউ টু সারভাইভ ইন ঢাকা সিটি?'
সবাইকে নিরাপদ অবস্থানে দেখতে এই টিপসগুলোর দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক দিন ধরে অনুভব করছিলাম→

১. ঢাকাতে কখনও বাসে জানালার পাশে বসে মোবাইল টিপবেন না। কখন নিয়ে যাবে তা টের পাবেন না। শুধু বাস না, কার, রিকশা কিছুই নিরাপদ না। সিএনজির ছাদ কেটেও মোবাইল নিয়ে নেয়। মোবাইল পকেটে নিরাপদ। নাকে বা কানে সোনার অলঙ্কারও নিরাপদ না।
২. রিকশাতে কোলে ব্যাগ? টান দিবে, ধরতে গিয়ে আপনি রাস্তায় পড়বেন, এবং আপনাকে রাস্তায় আছড়ে অনেক দূর টেনে নিয়ে যাবে, তাতে সিরিয়াস হেড অ্যান্ড স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির সম্ভাবনা থাকে। ব্যাকপ্যাক ব্যাবহার করুন। বা ব্যাগ পায়ের ফাকে রাখুন। মাঝে মাঝে ধরে রাখলেই ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি।
৩. রাস্তায় কিছু খাবেন না। আই মিন কিছুই না। দূরপাল্লার জার্নি, পাশের যাত্রী কিছু দিলে খান না, তাতে কি? হয়তো যে পানি বা ডাব কিনলেন, বা অন্যকিছু তাতেই থাকতে পারে ঔষধ মেশানো। প্রতারকরা অনেক চালাক এখন।
৪. ট্রেন জার্নিতে দরজার পাশে, দুই বগির পাশে টাইম নিবেন না, কিংবা যতোই ভালো লাগুক দরজায় দাঁড়িয়ে বিড়ি টানবেন না। ট্রেনের ছাদে চলাচল যতোই রোমান্টিক লাগুক, যে গ্যাংগুলো ছিনতাই করে, তারা রুথলেস। অনেক লাশ পাওয়া যায় ট্রেন লাইনে, ম্যাক্সিমাম বেওয়ারিশ দাফন হয়।
৫. ছিনতাইকারী বেশ কয়েকজন। আপনি ঘেরাও। পকেটে দামী ফোন। আমার মতে ফোনের মায়া ত্যাগ করা ভালো, কারণ যারা ছিনতাইকারী তারা যথেস্ট ডেসপারেট। যদি পালিয়ে যেতে পারেন ইউ আর টু লাকি। বাট ফোনের দাম আপনার জীবনের দামের চেয়ে বেশি না, ট্রাস্ট মি।
৬. বান্ধবী বা মেয়ে বন্ধু, রেস্টুরেন্ট বা পার্ক। হঠাৎ একদল ছেলে, একটা গ্যাং। আজে বাজে কথা বলছে, বাজে ইংগিত দিচ্ছে। ওরা কাইন্ড অফ চাইছে আপনি ঝামেলায় জড়ান। আপনারও রক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে, গার্লফ্রেন্ডের সামনে এরকম অপমান? জাস্ট এড়িয়ে যান, এ রকম সিচুয়েশনে আপনার সেলফ এস্টিমে যতোই লাগুক, কনফ্লিক্ট লস প্রজেক্ট। দুজন থাকলেও কথা, দুয়ের অধিক হলেই ঝামেলা লস প্রজেক্ট। আর নির্জন জায়গা হলে আরো আগে সরে যান।
৭. ভোররাতে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। ভয়ানক রিস্কি ঢাকার রাস্তা। পারলে বাসস্টপে বা ট্রেন স্টেশনে অপেক্ষা করুন সকালের যখন রাস্তায় যথেস্ট মানুষ থাকবে। এ সময় ছিনতাইকারীরা একটিভ থাকে। টেকনোলজিকালি এডভান্স হলে, উবার ডাকুন।
৮. ট্রেন স্টেশনে বা সদরঘাটে ভারী জিনিস নিয়ে আসছেন তো মরেছেন। আপনার কাছ থেকে চাঁদার মতো ৪০০-৫০০ টাকা খসিয়ে ছাড়বে। সাবধানে থাকুন।
৯. নিউমার্কেটের মতো মার্কেটগুলোতে বা নীলক্ষেতে কাউকে নিয়ে শপিং এ গেছেন, দাম জিজ্ঞাসা করছেন। কিন্তু যদি উনি বলে আপনি দাম বলেন, আপনি না নিতে চাইলেও দাম বলার জন্য জোরাজুরি করবে। মেজাজ দেখিয়ে লাভ নাই, এরা একটা গ্যাং, সাথে মেয়ে মানুষ দেখবে তো আরো বেশি ঝামেলা করবে। দাম বলুন একটা দরকার হলে অনেক কম করে বলুন। আপনার ক্লাস নিয়ে কমেন্ট করবে, যতোই অপমানিত লাগুক সরে যান। এখানে ঝামেলা লস প্রজেক্ট।
১০. বাসে পিছনের পকেটে ওয়ালেট বা সামনের পকেটে মোবাইল সেফ না। সাথে ব্যাগ থাকলে ব্যাগের ভিতর ফোন আর বাড়তি টাকা রেখে দিন। বাট আপনার ব্যাগ ও কিন্তু সেফ না, সেটাকেও দেখে রাখেন।
১১. চিড়িয়াখানায় গিয়ে কিচ্ছু খাবেন না। সিংগাড়া খাইয়ে ৮০০/৯০০টাকা খসায় নিবে। একই ব্যাপার বানিজ্যমেলায় বিরিয়ানী বা নাস্তার জন্য প্রযোজ্য কিংবা হাইওয়ে সাইড হোটেলে। ফ্যামিলি নিয়ে খাইসেন তো বিপদে পড়ছেন। অন্যান্য জায়গায়, যেমন শিশুপার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান এগুলাতে দাম জিজ্ঞাসা না করে একটা ফুচকাও খাবেন না। ফুচকার দাম ১০০/১৫০ বললে কিছু করার থাকে না। খাবার আগে দাম জিজ্ঞাসা করুন, এটা খুবই ভালো একটা অভ্যাস।
১২. রাতে ঘোরাঘুরি খুবই রিস্কি। সেটা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কিছু কমন অপরাধ স্পট আছে। এখন আর কোনো কমন কিছু নাই, সব জায়গাই রিস্কি। চোখ কান খোলা রাখুন।
১৩. বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন, হঠাৎ একটা মাইক্রো এসে থামলো, বা সেটা একটা কার ও হতে পারে। 'ট্রিপ' নিচ্ছে। উঠবেন না। মেয়ে হলে আরো আগে না; যতোই আরামের ভ্রমণের নিশ্চয়তা দিক, হতে পারেন ছিনতাই, ধর্ষণ বা কিডন্যাপিংয়ের শিকার। রাতের বেলা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের উপর সেফ কিছু নাই।
১৪. রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। হঠাৎ ভদ্রবেশী কেউ এসে, সে হতে পারে ছেলে বা মেয়ে, আপনার ফোন চাইলো, উনার কোন সমস্যা হয়তো, একটা ফোন দিবে কাউকে। ফোনটা দিলেন, দেখলেন লোকটা বাইকে উঠে হাওয়া! জ্বী, এমনও হয়।
১৫. হয়তো বন্ধু বান্ধবের আবদার, পার্টি। গিয়েছেন বুজ কিনতে কোনো বারে। বারের সামনেই সাদা পোশাকে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে, বুজ যাবে, টাকা যাবে, ইজ্জতও যাবে।
১৬. সাথে সবসময় আইডেন্টিফিকেশন ডকুমেন্ট রাখুন। কাজে দেয়। হয়তো অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন, তখনও কাজে দেয়।
১৭. হাটছেন, হঠাৎ অপরিচিত কেউ পিছন থেকে ডাকছে। আপনি যদি হেটে নিরাপদ দূরত্বে যেতে পারেন চলে যান। কারণ উনি আপনাকে আটকাবে, গ্যাং আসবে, দ্যান আপনি ছিনতাইয়ের শিকার। একই ব্যাপার ধাক্কা লাগিয়ে করবে। জাস্ট হেটে চলে যান।
১৮. বড় অংকের নগদ টাকা ট্রান্সফার করবেন না। রিস্কি, এরা যে কোথায় নাই, ইউ উইল ওয়ান্ডার।
সবচেয়ে বড় কথা, সবসময় সতর্ক থাকুন, চোখ কান খোলা রাখুন, নিজের ইন্সটিক্টকে বিলিভ করুন। স্টে সেফ।
লেখা: দেবাশিষ দত্ত।

ভালো থাকুন | School of Awareness

বিকাশ সার্ভিসে আবারও সক্রিয় হয়েছে হ্যাকাররা, জেনে নিন ও সতর্ক থাকুন!


রাত ১১.৩৪ এ হঠাৎ করে +১৬২৪৭ (বিকাশ হেল্পলাইন) থেকে ফোন আসে। কেবলমাত্র ঘুমিয়েছি। ঘুম ঘুম চোখে ফোনটা কেটে দিলাম। পরে আবার ফোন দিলো। রিসিভ করে সালাম দিলাম। 
একজন দক্ষ কাস্টমার কেয়ার অপারেটর এর মত সালাম দিলো। বলছে, স্যার আপনার ফোনে গত মাসের ১৪ তারিখে BTRC থেকে ম্যাসেজ করা হয়েছিলো যে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্ট হালনাগাদের লক্ষ্যে আপনার ভোটার আইডি কার্ড প্রদান করুন। রিপ্লাই ম্যাসেজে আপনার ভোটার আইডি কার্ড নাম্বার ও অ্যাকাউন্ট এর তথ্য সেন্ড করতে বলা হয়েছে আপনি করেন নাই।
না হলে আপনার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। স্বাভাবিকভাবেই ঘাবড়ে গেলাম। আমার অ্যাকাউন্টে তখন ১১০০০+ টাকা। মনে মনে চিন্তা করলাম ১১০০০ টাকা আটকে যাচ্ছে। বিষয়টা কেমন হয়?
আমাকে হতবাক করে দিয়ে অপর দিক থেকে সে বলল, স্যার আপনার লাস্ট ট্রানজেকশন ৫১০০ টাকা।
মোট ১১০০০ টাকা আছে!
(এই কথা শোনার পর কার না বিশ্বাস জন্মে কে সে আমার বিকাশ অ্যাকাউন্ট এর খবর জানে অবশ্যই সে রিয়াল)
বলে, যদি আপনি এখন তথ্য প্রদান না করেন তাহলে আপনার টাকাসহ অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। 
বড় বিপদে পড়ে গেলাম।
মনে মনে বললাম টাকা তো যাবে না জাস্ট অ্যাকাউন্টটা বন্ধ হবে। পরে হালনাগাদ করে নিবো। আমি অপর দিকে লোকটাকে বললাম, দেখুন ভাই আমার অ্যাকাউন্ট তো আমার বাবার আইডি কার্ড এর তথ্য দিয়া অ্যাকাউন্টটা খুলেছি আমি আজকে দিতে পারবো না। 
কথাটা শুনে অপর দিকে থাকা লোকটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে বলে তাহলে আপনার অ্যাকাউন্টটা ডি-অ্যাক্টিভ করে দিলাম। 
সাথে আবার একটু থ্রেড টাইপের কথা বলে, আপনি জানেন না বিকাশ হেল্পলাইনের নাম্বার এইটা ফোন কেটে দেন কেন?
বললাম, ভাই রাত সাড়ে ১১ টায় কোনো কাস্টমার কেয়ার থেকে ফোন কল! কেমন অদ্ভুত বিষয় না?
সে আমাকে ডাটিয়ে বলছে, প্রয়োজনে যেকোনো সময় ফোন করবে।
আমি ওকে বলে ফোনটা কেটে দিলাম।
১০ মিনিট পর চেক করতে গেলাম যে অ্যাকাউন্টটা সত্যি কি বন্ধ করে দিলো।
নিজের ফোনে ১০ টাকা বাই এয়ারটাইম করলাম। 
দেখলাম সাথে সাথে টাকা মোবাইলে আসলো। পরে ১৬২৪৭ এ কল দিলাম। দিয়ে সব ঘটনা খুলে বললাম।
তারপর তারা যা বলল তা সবকিছুই আমার জানা। একটি সংঘবদ্ধ চক্র নাম্বার ক্লোনের মাধ্যমে স্ক্যাম করছে এবং আপনার অ্যাকাউন্ট এর সব টাকা তারা হাতিয়ে নিচ্ছে আপনার অজান্তেই।
অবাক হয়ে ভাবতে থাকি আমি এইসব জিনিস জানার পরেও আমাকে প্রায় হেপ্রটাইস করে ফেলেছিল।
তাহলে যারা জানে না তাদের কি অবস্থা হয়?
তাই কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে চাই:
১. বিকাশ কখনই কোনো তথ্য/অফার/নোটিশ ফোনকল অথবা ম্যাসেজের মাধ্যমে কোনো বিকাশ গ্রাহক/এজেন্ট কে পাঠায় না। যদি কিছু করতেই হয় তবে পেপার পত্রিকা/ কোনো বড় ধরনের টিভি এ্যাডভারটাইসমেন্ট এর মাধ্যমে জানাবে।
২. যদি আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে হয় তাহলে কোনো ওয়ার্নিং ছাড়াই বন্ধ করে দিবে আপনাকে ফোনকলে নোটিশ দিয়ে বন্ধ করবে না।
৩. যদি আপনি বিকাশ এজেন্ট হন তাহলে মনে রাখবেন বিকাশ কখনই ফোনকল অথবা ম্যাসেজে আপনাকে কিছু দিবে না অথবা নিবে না। যা করবে তা সব সরাসরি সামনা সামনি করবে।
৪. সব কথার এক কথা ফোন করে/ ম্যাসেজে আপনার অ্যাকাউন্ট এর কিছু জানতে চাওয়া অথবা কোন কিছু ডায়েল করতে বললে নিঃদ্বিধায় একবাক্যে ১০০% কনফার্ম হবে যে সে প্রতারক। ডিজিটাল সুযোগ সুবিধার ফলাফল ভোগ করুন। কিন্তু একটু সাবধান থাকবেন। তাহলে সব ঠিক থাকবে।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness